মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ ও অসহায়দের পাশে জেলা পরিষদ: নতুন নেতৃত্বে বদলাচ্ছে শেরপুর

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। শিক্ষা সহায়তা থেকে শুরু করে অসহায় দরিদ্রদের আর্থিক সাহায্য—সবক্ষেত্রেই যেন এক নতুন গতি ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৬ মে) সরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তি হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তারের স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা পরিষদ।
নার্স হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো মরিয়মের শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে মরিয়ম আক্তার। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মরিয়মের স্বপ্ন ছিল নার্স হয়ে মানুষের সেবা করা। অদম্য মেধায় সে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সরকারি কলেজ অব নার্সিং-এ ভর্তির সুযোগও পেয়েছে। কিন্তু দরিদ্র বাবা মো. মোজাফফর আলীর পক্ষে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল প্রায় অসম্ভব। বিষয়টি জানতে পেরে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা পরিষদ সদস্য জনাব আল-আমীনের শরণাপন্ন হন মরিয়মের পরিবার।
এই খবর পৌঁছায় জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশের কাছে। তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং বুধবার বেলা ১১টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে মরিয়মের হাতে ১০,০০০ টাকার শিক্ষা বৃত্তির চেক তুলে দেন। আবেগাপ্লুত মরিয়ম ও তার পিতা জেলা প্রশাসনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় প্রশাসক বলেন, “মানবতার সেবার এমন ব্রত যার, তার পাশে জেলা পরিষদ সব সময় থাকবে।” প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দীপঙ্কর রায় বলেন, “নার্সিং একটি মহান পেশা। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে মরিয়ম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মানবতার সেবায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে।”
প্রশাসকের মানবিকতায় হাসি ফুটছে অসহায়দের মুখে শুধু মরিয়মই নয়, তার আগের দিন ৫ মে জেলা পরিষদ থেকে আরও একঝাঁক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো হয়েছে। এদিন কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া পিতৃ-মাতৃহীন মেধাবী শিক্ষার্থী জুই মনিকে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০,০০০ টাকার শিক্ষা সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি ওইদিন সকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১২ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে মোট ৪৮,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দীপঙ্কর রায় বলেন, “পরিষদের বাজেট সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা জেলা পরিষদ পরিবার আপনাদের দুঃখে সমব্যথী হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”
নতুন নেতৃত্বে জেলা পরিষদের নতুন রূপ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ জেলা পরিষদকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা এবং তাদের সংকটে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে জেলা পরিষদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসানসহ জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা ও উপকারভোগীবৃন্দ। শেরপুরবাসীর আশা, এভাবেই জেলা পরিষদ প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)