গারো পাহাড়ে কৃষির বিপ্লব: বৃহত্তর ময়মনসিংহের সেরা কৃষি উদ্যোক্তা শেরপুরের আব্দুল কাদির

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
পাহাড়ি জনপদে আধুনিক কৃষির মেলবন্ধন ঘটিয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার আদর্শ কৃষক মো. আব্দুল কাদির। কৃষি খাতে অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সেরা কৃষি উদ্যোক্তা’ পুরস্কার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর আওতায় অনুষ্ঠিত ‘২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রকল্প কার্যক্রম মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ শুরু করেন আব্দুল কাদির। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগাম জাতের কেরালা শিম, বরবটি ও কাঁকরোল চাষে অভাবনীয় সাফল্য পান। বিশেষ করে, সরকারের দেওয়া আধুনিক ‘পলিনেট হাউস’ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ‘মাল্টি স্টার’ জাতের শসা এবং বিভিন্ন ফসলের উন্নত চারা উৎপাদন করে তিনি পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
ময়মনসিংহে আয়োজিত এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুস সাত্তার এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরহাদ হোসেন। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামালের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ সালমা আক্তার।
পুরস্কার প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সফল কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল কাদির বলেন, "গারো পাহাড়ের মতো একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আমাকে এই গৌরবময় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ স্যারসহ কৃষি বিভাগের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই স্বীকৃতি আমার কাজের প্রতি দায়িত্ব ও আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সম্মান আমার একার নয়, পুরো শেরপুরবাসীর।"
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কাদির আরও বলেন, "খুব শিগগিরই আমি নতুন করে দেড় বিঘা জমিতে কাঁকরোল, ১০ শতাংশ জমিতে বারি-৭ জাতের ফসল এবং ৫০ শতাংশ জমিতে আগাম কেরালা শিম চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, আব্দুল কাদিরের এই ঈর্ষণীয় সাফল্য ও স্বীকৃতি স্থানীয় অন্য কৃষকদের প্রথাগত চাষাবাদ থেকে বেরিয়ে আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করবে। পাহাড়ের ঢালে আব্দুল কাদিরের এই সবুজ বিপ্লব অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)