শেরপুরে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অভিনব উপায়ে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ ৯ মে, শনিবার দুপুরে শহরের নবারুণ পাবলিক স্কুল পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, জনপ্রতি ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত পরীক্ষা পাস করিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে তারা এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার করছিল।
আটককৃত পরীক্ষার্থীরা হলো— শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে মো. মহিউর রহমান মশাল, বলাইয়েরচর ইউনিয়নের কুমড়ারচর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে মো. মমিনুল ইসলাম মমিন, চরশ্রীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রসুল মিয়া, পাইকারতলা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রায়হান হোসেন এবং চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের পূর্ব খাসপাড়া গ্রামের জহুর আলীর ছেলে মো. শান্ত মিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলায় শূন্য পদের বিপরীতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণ পর্ব শেষে আজ শনিবার সকাল ১১টায় লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন সন্দেহ হলে ওই পাঁচ পরীক্ষার্থীর দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের পরিহিত বিশেষ ধরনের গেঞ্জির ভেতরে অভিনব কায়দায় ফিট করা ডিজিটাল ডিভাইস এবং কানে লুকানো অবস্থায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র ইয়ারফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র মাঠ পর্যায়ের শারীরিক পরীক্ষা পাসের পর চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করে। পরবর্তীতে তাদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষার ঠিক আগে এই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়। ডিভাইসগুলো লুকিয়ে রাখার সুবিধার্থে বিশেষভাবে গেঞ্জি ও জুতো তৈরি করা হয়েছিল, যার ভেতরে ডিভাইসগুলো লুকিয়ে রেখে তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে এবং আটককৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন