শেরপুরের কুরবানির হাট কাঁপাবে ৩৩ মণের ‘বাংলার ডন’ দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0


সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেরপুর জেলা জুড়ে এখন একটাই আলোচনা—‘বাংলার ডন’। কোনো সিনেমার নায়ক কিংবা খলনায়ক নয়, এটি আসলে নালিতাবাড়ী উপজেলার ‘আলিফ-লাম এগ্রো ফার্ম’-এ গড়ে ওঠা ফ্রিজিয়ান জাতের এক বিশালাকৃতির ষাঁড় গরু। ৩৩ মণ ওজনের এই কালো-সাদা রঙের দানবাকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন খামারে। কুরবানির হাটে তোলার আগেই ‘বাংলার ডন’কে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা।
খামার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান আলীর মালিকানাধীন এই ‘বাংলার ডন’-এর বয়স প্রায় ৩ বছর। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। পরিমাপ অনুযায়ী এর ওজন প্রায় ৩৩ মণ। বিশাল দেহের কারণে খামারে আসা দর্শনার্থীরা প্রথম দেখাতেই রীতিমতো বিস্মিত হয়ে পড়ছেন।
‘বাংলার ডন’-এর পেছনে প্রতিদিনকার শ্রম ও খরচও কম নয়। খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, অত্যন্ত রাজকীয় হালে লালন-পালন করা হচ্ছে তাকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি কাঁচা ঘাস ও খড়। পাশাপাশি ২০ কেজি খৈল, ভুসি ও ভুট্টার গুঁড়া। গরম থেকে বাঁচাতে ও পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনে ৩ থেকে ৪ বার গোসল করানো হয়। কোনো প্রকার কৃত্রিম ওষুধ ছাড়া, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করায় নিয়মিত চলছে পশু চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ।খামারে এবার কুরবানির জন্য শতাধিক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ২৫ থেকে ২৮ মণের আরও ৮-১০টি বড় গরু রয়েছে। তবে ‘বাংলার ডন’ এর মতো আর একটিও নেই। কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও এর দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে। এটিই এবার পুরো শেরপুর জেলা কাঁপাবে। আলিফ-লাম এগ্রো ফার্মের ম্যানেজার মোঃ রফিক মিয়া কথাগুলি জানান।
খামারের শ্রমিক মো. হাবিব জানান, এত বড় গরু সামলানো বেশ কঠিন হলেও এর পেছনে কাজ করে এক অদ্ভুত মায়াজাল। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতোই বাংলার ডনের যত্ন নেই। মালিক আমাদের খুব ভালোবাসেন, তাই আমরাও জানপ্রাণ দিয়ে খামারের সেবা করি। অন্য সব গরুর চেয়ে বাংলার ডনের প্রতি আমাদের আলাদা মায়া জন্মে গেছে।
পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা থেকে ‘বাংলার ডন’-কে একনজর দেখতে এসেছিলেন রুবেল মিয়া। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এর আগে এত বড় গরু কখনো সামনাসামনি দেখিনি। শুধু লোকমুখে শুনেই দেখতে এসেছি। সত্যিই অবাক হওয়ার মতো সাইজ! এই গরুটি দেখার পর আমার নিজেরও এমন একটি গরু লালন-পালন করার শখ জেগেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু সায়েম জানান, বর্তমান সময়ে ক্রেতারা ক্ষতিকর হরমোনমুক্ত, সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা পশুর প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি বলেন, “‘বাংলার ডন’কে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বড় করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, খামারি ও মালিক তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন।”
কুরবানির হাটে তোলার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ‘বাংলার ডন’কে ঘিরে ক্রেতা ও উৎসুক জনতার পারদ ততই চড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেরপুরের গণ্ডি পেরিয়ে ‘বাংলার ডন’ কোন পশুর হাটে নিজের রাজত্ব কায়েম করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)