শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশরাফুল (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো গ্রামজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত আশরাফুল খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের সাথে একই এলাকার আশরাফুলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৬ মে শনিবার রাতে নুরুল আমিন মেম্বারের নেতৃত্বে আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারপিট করা হয় এবং একটি ভ্যান গাড়িসহ বসতবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে ১৮ মে সোমবার সকালে আশরাফুলের সঙ্গে মেম্বার পক্ষের আবারো সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে আশরাফুলসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আশরাফুলকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহালম মিয়া (৪৫), শরিফ (২০), শামীম মিয়া (২১), নজরুল ইসলাম (১৮), অজিরন বেগম (৮০) ও হাজেরা বেগমসহ আরও কয়েকজন।
এদিকে আশরাফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নুরুল আমিন মেম্বারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। এছাড়া ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করা হয়েছে।
শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আশরাফুল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে থানায় আনা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধী রয়েছে।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন