শহীদ জিয়ার দর্শনে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় শেরপুরে কৃষিতে বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। আজ ১৩ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখে শেরপুর সদর উপজেলায় দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন শেরপুর সদরের আয়োজনে সাহাব্দীরচর হতে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করেন শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সদর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন।
তবে এই আনুষ্ঠানিকতার মাঝে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো শেরপুরের সাধারণ মানুষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে খালের খনন কাজ পরিদর্শনের এক পর্যায়ে কোনো রকম দ্বিধাবোধ না করে সাধারণ শ্রমিক ও নেতাকর্মীদের সাথে খালের মাটিতে নেমে পড়েন বিশেষ অতিথি ও শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ (পলাশ)। তিনি নিজেই নিজের মাথায় তুলে নেন মাটি ভর্তি টুকরি (খাঁচা)। একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধির এমন মাটির মানুষ হয়ে ওঠার গল্প উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত ও অনুপ্রাণিত করে।
এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রসঙ্গে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধ্যক্ষ এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ পলাশ এক আবেগঘন স্মৃতিরোমন্থন করেন। তিনি বলেন, "আমার বাবা যখন শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন তিনি স্বয়ং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাটি কেটেছিলেন। বাবার মুখে শোনা সেই গৌরবময় ইতিহাসের কথা আজ আমার খুব মনে পড়ছিল। আজ যখন শহীদ জিয়ার দূরদর্শী দর্শনকে বুকে ধারণ করে আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশব্যাপী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, তখন আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। বাবার সেই আবেগঘন মুহূর্তের কথা স্মরণ করে এবং তাঁর আদর্শকে সম্মান জানিয়েই আজ আমি মাথায় মাটির খাঁচা তুলে নিয়ে এই খাল খননে অংশ নিয়েছি।"
অনুষ্ঠানে বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তারা বলেন, ১৯৭০ এর দশকে শহীদ জিয়া যে ঐতিহাসিক খাল খনন বিপ্লব শুরু করেছিলেন, আজ তারই ধারাবাহিকতায় এই পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রামীণ জনপদে অর্থনৈতিক মুক্তির এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে। এই খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম স্বপন, সদর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম ভিপি, শহর বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাফর, যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম সজীব, জেলা কৃষক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম গোল্ডেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতা আহারুল ইসলাম আতা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান উজ্জ্বল এবং সদর যুবদলের আহ্বায়ক পারভেজ আহমেদ।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও প্রশাসক (শেরপুর পৌরসভা) মিজ্ আরিফা সিদ্দিকা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জনাব রকিবুল হাসানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, উপকারভোগী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
উদ্বোধন ও পরিদর্শন শেষে এলাকার সাধারণ মানুষ এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন