কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পলিটেকনিক ছাত্র ছাইব হত্যা: খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে শেরপুরে এসপি কার্যালয়ে শাস্তি দাবী ও মানববন্ধন

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় নিহত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেধাবী শিক্ষার্থী আল-মুহতাশিম ছাইবের খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শেরপুর। ২১ জুন রবিবার সকালে শেরপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ, সরকারি পলিটেকনিক কলেজ এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন হাতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মানববন্ধন শেষে তারা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন নিহত ছাইবের বাবা আব্দুল মালেক, মা রেবেকা সুলতানা এবং সহপাঠী শিক্ষার্থী জুয়েল রানা। এ সময় ছাইবের মা-বাবার কান্না ও আহাজারিতে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পুলিশ সুপার কার্যালয় সম্মুখে যে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবী করলে সে সময় শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার এ.কে.এম জহিরুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের মাঝে এসে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। কিশোর অপরাধের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, "এটি অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণিত একটি হত্যাকাণ্ড। এত অল্প বয়সেই পথ হারিয়ে কিশোররা যেভাবে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ছে এবং এমন নৃশংস কাজ করছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন, "আপনারা ইতিমধ্যেই দেখছেন যে বর্তমান সরকার দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ রোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরাও সরকারের সেই নির্দেশনার আলোকেই শেরপুর জেলাকে অপরাধমুক্ত করতে কাজ করছি। ছাইব হত্যার মূল আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করতে পুলিশ বাহিনী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেলে শেরপুর শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে যায় শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আল-মুহতাশিম ছাইব। সেখানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাইবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ কয়েকদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেধাবী এই শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)