সুলতান আহমেদ ময়না, জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর তীব্র ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় উপজেলার গোল্লারপাড় এলাকায় উপস্থিত হয়ে তিনি নদীভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি কমতে শুরু করলেও তীরবর্তী মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক এখনো কাটেনি। স্থানীয়দের এই দুর্ভোগ ও আতঙ্কের খবর পেয়েই জেলা প্রশাসক আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে যান এবং ভাঙনের তীব্রতা দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে নদীভাঙন এলাকার ঠিক পাশে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় থাকা এক বয়োবৃদ্ধা নারীর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই বৃদ্ধার হাতে শুকনো খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
পরে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি আলোচনায় বসেন জেলা প্রশাসক। বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুতই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয়।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন নকলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে নালিতাবাড়ী), নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, শেরপুর এলজিইডি (LGED)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (WDB) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO), সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন