ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের উপস্থিতিতে ক্রীড়া ভাতা ও শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কোনো রকম প্রথাগত চেক বা কাগুজে জটিলতা ছাড়াই সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল শেরপুরের ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুদান। সোমবার (১৫ জুন) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিজিটাল (BEFTN) পদ্ধতিতে সারা বাংলাদেশের সাথে একযোগে শেরপুরের উপকারভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ প্রেরণ করা হয়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানের সাথে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই কার্যক্রমে অংশ নেন স্থানীয় কর্মকর্তা ও ক্রীড়াবিদরা।
জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ২২তম board সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেরপুর জেলার জন্য অনুমোদিত অর্থ সরাসরি সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর রমনা কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।শেরপুর জেলার ২৩ জন অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ ক্রীড়াসেবীকে মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে বার্ষিক ৩০,০০০ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হয়েছে এবং জেলার ১৮ জন প্রতিভাবান ও উদীয়মান ক্রীড়া শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর ৯ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক ১,০০০ টাকা হারে বছরে ১২,০০০ টাকা এবং একাদশ থেকে স্নাতক শ্রেণীর ১০ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক ২,০০০ টাকা হারে বছরে ২৪,০০০ টাকা।
শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ।জেলা ক্রীড়া অফিসার ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার।জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব জিন্নত আলী।সদস্য জুলহাস উদ্দিনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও অর্থ সহায়তা প্রাপ্ত সদস্যরা।
কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক। যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে মোট ৮ কোটি ৪১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ক্রীড়া সহায়তা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১,৭৯৭ জন ক্রীড়াসেবীকে ভাতা এবং ১,৪২৩ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
ভার্চুয়ালি যুক্ত দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও ক্রীড়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ক্রীড়াবিদদের স্বচ্ছতার সাথে এই সহায়তার আওতায় আনতে নতুন যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। আগামীতে দেশের সকল ফেডারেশনের সাথে কথা বলে অসচ্ছল সাবেক খেলোয়াড়দের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের স্থায়ীভাবে ক্রীড়া ভাতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন এই ডিজিটাল ও স্বচ্ছ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণের এই আধুনিক পদ্ধতি কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা ঝামেলার সুযোগ রাখেনি। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ শেরপুরের প্রান্তিক ও অসচ্ছল ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও মসৃণ করবে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন