পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেরপুর জেলায় কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এবং দেশীয় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাইয়ে এবার জেলায় প্রায় বিরানব্বই হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, শেরপুরের ১৩,৫৯০টি খামারে দিনরাত চলছে পশুর পরিচর্যা।
এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ৬৩ হাজার ৭৪০টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ২৮ হাজার উদ্বৃত্ত পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার রোধ করে শতভাগ নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক টিম। খামারিরা জানান, তারা কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার না করে খড়, কাঁচা ঘাস, নেপিয়ার ঘাস, গমের ভুসি এবং ভুট্টার মতো প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য দিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করছেন। খামারের শ্রমিকদের কথায়, "একেকটি গরুকে সন্তানের মতো পরম মমতায় বড় করা হয়েছে।"
অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুল হক জানান, খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কোরবানির হাটে সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পশুর শেষ মুহূর্তের বদহজম রোধে অতিরিক্ত দানাদার খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ভেটেরিনারি সার্জনরা।
খামারিরা জানিয়েছেন, এবার গোখাদ্যের দাম চড়া হলেও যদি বাজারে পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া যায়, তবে তারা লাভবান হবেন। তবে তাদের মূল শঙ্কা ভারতীয় গরু নিয়ে। খামারিদের স্পষ্ট দাবি, সীমান্ত পার হয়ে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকলে দেশীয় গরুর ভালো দাম ও ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে। ইতিমধ্যে অনেক ব্যাপারি ও স্থানীয় ক্রেতারা সরাসরি খামারে গিয়ে পছন্দের পশু দেখে দরদাম শুরু করে দিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন কোরবানির হাটগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে জেলা পুলিশ। বড় বড় হাটগুলোতে জাল টাকার কারবার রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রতিটি বড় হাটে বসানো হচ্ছে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন। আশ্বস্ত করা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত পার হয়ে কোনো বিদেশি বা চোরাই গরু যাতে জেলায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদের পর পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলার সব বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোরবানির চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য জেলায় ৩০ টন লবণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইতিমধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও সম্পন্ন করা হয়েছে।



সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন