বিয়ের কনে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যায়, বিকেলের বজ্রপাতে সব শেষ!

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে আজ সন্ধ্যায় মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল ২১ বছরের যুবক মিজান মিয়ার। পরিবারের সবাই যখন সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এক নিমিষেই ধুলিসাৎ হয়ে গেল সব আনন্দ। বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না মিজানের; তার আগেই মেঘের গর্জন কেড়ে নিল এই তরুণের তাজা প্রাণ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় বজ্রপাতে মো. মিজান মিয়া নামের ওই যুবকের করুণ মৃত্যু হয়। নিহত মিজান স্থানীয় কমল মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন ডেলিভারি ম্যান ছিলেন, পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন নির্মাণ ও শ্রমভিত্তিক কাজও করতেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় হঠাতই বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মিজান কোনো প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জামালপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে; হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মিজানকে মৃত ঘোষণা করেন। চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল মিয়া গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মিজানের মা কিছুদিন আগেই মারা গেছেন। আজ সন্ধ্যায় তার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু এক বিকেল সংবাদের সব আনন্দকে চিরদিনের জন্য বিষাদে রূপান্তর করে দিল। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন বজ্রপাতে তরুণ মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে সরকারি সহায়তার জন্য একটি লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে। আগামী রোববার আবেদন জমা দিলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া পরিবারটি বেশি অসচ্ছল হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তারও ব্যবস্থা করা হবে। মিজানের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো সাতপাকিয়া এলাকায় এখন শুধুই কান্নার রোল। কনে দেখার আনন্দের ঘর এখন রূপ নিয়েছে শোকের মাতমে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)