এক সময়ে বাংলাদেশের প্রধান অর্থউপার্জনকারী ফসল ছিল পাট। কালের বিবর্তনে তা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। শেরপুর জেলা একসময় পাট উৎপাদনের অনন্য এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। আমরা যেন নতুন করে পাট উৎপাদন বৃদ্ধি, নিত্যনতুন ও বহুমুখী পাটজাত পণ্য উদ্ভাবন এবং তা বিদেশে রপ্তানি করে পাটের সেই হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনতে পারি, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও অংশীজনসহ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।"
১৭ জুন (২০২৬) বিকেলে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন এসব কথা বলেন।
পরিবেশ দূষণ রোধ ও পাটের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শেরপুরে পাট ও পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন জোরদারকরণে এই জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পাট অধিদপ্তর (শেরপুর) যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
সভায় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পাটের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ এবং আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। জাতীয় স্বার্থে পাটখাতের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাকিল আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাগত বক্তব্য ও পাটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল আলোচনা শুরু করেন জামালপুরের জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আক্রাম হোসেন।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক পাট ব্যবসায়ী প্রিয়তোষ সাহা, শেরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাঁকন রেজা, কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ আওয়াল চৌধুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য আলহাজ্ব জাকারিয়া আব্দুল বাতেন এবং পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি। এছাড়াও সভায় সাংবাদিক সুলতান আহমেদ ময়না, জুবায়দুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম, জাহিদ হাসান খান সৌরভসহ জেলার পাট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় সরকারের "সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ" স্লোগানকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেটের মাধ্যমে দুটি প্রধান আইনি বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়:
আইন অনুযায়ী মোট ১৯টি পণ্যের (ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, পোল্ট্রি ফিড, ফিস ফিড ও তুষ-খুদ-কুঁড়া) মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে অনধিক ০১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটপণ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য অনলাইন লাইসেন্স গ্রহণ এবং নিয়মিত নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। লাইসেন্সবিহীন পাট ব্যবসা পরিচালনা করলে অনধিক ০৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ০১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পাট আইন-২০১৭ এবং মোড়কীকরণ আইন-২০১০ বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর অধীনে পাট সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ‘পাট অধিদপ্তর, ৯৯ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০’ এই ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন