প্রকৃতির কোলে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়: ঈদের ছুটিতে মুখরিত শেরপুরের গজনী ও মধুটিলা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর কর্মজীবনের ব্যস্ততা পিছে ফেলে প্রকৃতির অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঢল নেমেছে হাজারো ভ্রমণপিপাসুর। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে অবস্থিত গারো পাহাড়ের পাদদেশের মনোরম ‘গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র’ এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’ এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত। ঈদের দিন থেকেই প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ আর কৃত্রিম বিনোদনের অপূর্ব মিশেলে তৈরি এই দুটি স্পট হয়ে উঠেছে ঈদ আনন্দের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা উঁচু-নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহে ঘেরা গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গারো পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে দিয়ে পর্যটকরা অনায়াসেই লেকের পাড় ধরে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। লেকের বুকে ছোট ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানো, পাহাড়ের পাদদেশে কফি ও গানের আড্ডা জমিয়ে তুলছেন তরুণ-তরুণীরা। এছাড়া ‘গারো মা ভিলেজ’-এর মাশরুম ছাতার নিচে বা পাখি বেঞ্চে বসে উপভোগ করছেন পাহাড়ি জনপদের ভিন্ন জীবনমান, উপজাতীয়দের জীবনযাত্রা এবং দিগন্তজোড়া সবুজ ধানক্ষেত।
শিশুদের বিনোদনের জন্য এখানে ‘চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক’-এর পাশাপাশি নতুন যুক্ত হয়েছে শিশু কর্নার। এছাড়াও ঝুলন্ত ব্রিজ, লাভ সেলফি পয়েন্ট, সেলফি ব্রিজ এবং লেকের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটের ঝুলন্ত সেতুর ইজারাদার সানোয়ার হোসেন জানান, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় পুরো এলাকা মুখর থাকছে। প্রচুর ভিড় থাকায় স্পটটি এখন দারুণ জমজমাট।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "শহরের কোলাহল ছেড়ে গারো পাহাড়ে এসেছি। গ্রামে এসে এই পাহাড়ি প্রকৃতি না দেখলে ঈদের আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় না।"
একই চিত্র দেখা গেছে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কেও। এবার ইকোপার্কে বন্যহাতিদের বিচরণ দেখতে পাওয়ার কারণে কৌতূহলী মানুষের ভিড় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অফিস-আদালত খুললেও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এখনও বন্ধ থাকায় সপরিবারে ঘুরে বেড়ানোর এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে।
এদিকে শেরপুরের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বর্তমান পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আগের চেয়ে আরও সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের আরও সুদূরপ্রসারী ও চমৎকার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, পর্যটন এলাকায় টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অঘটন ঘটার সুযোগ নেই।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন বলেন, "পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানুষ নির্বিঘ্নে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আসছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরার জন্য আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।"
প্রকৃতির সবুজ চাদর আর পাহাড়ের হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে ঈদের এই ছুটি শেরপুরের গজনী ও মধুটিলায় আসা পর্যটকদের মনে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তি এনে দিচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)