শেরপুর জেলা বিএনপি অফিসের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ‘শহিদ ভাই’ আর নেই, জানাজা সম্পন্ন

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর জেলা বিএনপি অফিসের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত, নীরব ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী মো. শহিদ (সবার প্রিয় শহিদ কাকা) আর নেই। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি শহরের কসবা মহল্লায় বসবাস করতেন।
আজ ১ জুন (সোমবার) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় কসবা ঈদগাহ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এক নিবেদিতপ্রাণ ‘বিএনপি পাগল’ কর্মীর বিদায়: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদ কাকা ছিলেন শেরপুর জেলা বিএনপির এক নীরব কাণ্ডারি। বিএনপির প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে জেলা দলীয় কার্যালয়ের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শুধু অফিস পাহারা বা দেখভালই নয়, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিং এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে তার উপস্থিতি ছিল অবধারিত। প্রতিকূল ও কঠিন সময়েও আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সবসময় সামনের সারিতে পাওয়া যেত। দলের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগ তাকে শেরপুর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে একজন ‘নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি পাগল’ মানুষ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল। তার এই আকস্মিক বিদায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঢল: মরহুমের জানাজার নামাজে শেরপুর জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন— শেরপুর জেলা বিএনপির স্থগিতকৃত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ এ.বি.এম মামুনুর রশিদ পলাশ; জেলা বিএনপির স্থগিতকৃত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম; শেরপুর শহর বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা আদালতের বিজ্ঞ পি.পি এডভোকেট আব্দুল মান্নান; জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. আওয়াল চৌধুরী; সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন; সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলহাজ্ব সামিউল ইসলাম আতাহার; সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. মোখলেসুর রহমান জীবন; সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন; সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকরামুজ্জামান রাহাত; শেরপুর সদর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম; শহর বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাফর; জেলা বিএনপির সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ ময়না; শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম রুমি; জেলা কৃষক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম গোল্ডেন এবং জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাহারুল ইসলাম আতা।
এছাড়াও জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানাজায় শরিক হয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নেতৃবৃন্দের স্মৃতিচারণ ও আফসোস: জানাজা শেষে মরহুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ এ.বি.এম মামুনুর রশিদ পলাশ। তিনি বলেন, “শহিদ ভাই দলীয় অফিসের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তিনি ছিলেন এক অনন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। আমার বাবা যখন জেলা বিএনপির সেক্রেটারি ও সভাপতি ছিলেন, তখন থেকেই শহিদ ভাইকে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতে দেখেছি। দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি পরম নিষ্ঠায় পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে আমি যখন বিএনপির রাজনীতি ও দায়িত্বে এলাম, তখনও আমার সাথে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তিনি সবসময় ছায়ার মতো দলের পাশে ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “বড় আফসোস, আজ যখন বিএনপি সুদিনের পথে, তখন এই অর্জনের আনন্দ ও স্বাদ তিনি ভোগ করে যেতে পারলেন না। দল তাঁর অবদান চিরকাল মনে রাখবে। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা অবশ্যই তাঁর পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব এবং এই সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)