শেরপুর জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও বহুল প্রত্যাশিত প্রস্তাবিত 'শেরপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ' স্থাপনের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। এই মেডিকেল কলেজের জন্য উপযুক্ত, পরিবেশবান্ধব এবং সহজে অধিগ্রহণযোগ্য ভূমির সন্ধানে শেরপুরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আজ ৮ জুন (সোমবার) দুপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপ্রতিনিধি দল শেরপুরের মোট ৫টি প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রতিনিধি দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ জানান, একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য কমপক্ষে ২০ একর বা তারচেয়ে বেশি নিষ্কণ্টক ভূমির প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফসলি বা কৃষিজমি নষ্ট না করার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "কোন স্থানে মেডিকেল কলেজটি স্থাপন করলে সবচেয়ে সুন্দর ও দৃশ্যমান (ভিজিবল) হবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সবচেয়ে সহজ হবে—তা যাচাই করতেই আমাদের এই সফর। আমরা ৫টি স্থান ঘুরে দেখেছি এবং আমাদের টেকনিক্যাল ফাইন্ডিংস বা পর্যবেক্ষণ সরকারের কাছে জমা দেব। সবদিক থেকে যেটি সেরা হবে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা সেখানেই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
পরিদর্শনকারী দলটি মেডিকেল কলেজের জন্য জমি প্রাপ্তির সহজলভ্যতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে শেরপুর শহরের আশেপাশের নিম্নলিখিত ৫টি স্থান ঘুরে দেখেন: ১. শহরের নওহাটা পৌর কবরস্থানের পার্শ্ববর্তী এলাকা ২. সুলতানপুর ৩. ইসলি বিল এলাকা ৪. শেরীব্রিজ পূর্ব পার্শ্বের এলাকা ৫. শেরীব্রিজ পশ্চিম পার্শ্বের এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ এই পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডীন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল হক, জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বিএমডিসি মনোনীত প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুল ইসলাম।
এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিঞা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রতিনিধি মো. মকবুল হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. ওয়াসেক-বিন-শহীদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মেডিকেল কলেজের স্থান নির্ধারণে সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতায় শেরপুরের আপামর জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি—একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শেরপুরসহ আশেপাশের অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। স্বাস্থ্য বিভাগের এই সরেজমিন পরিদর্শন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে একধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছেন জেলাবাসী।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন