কেন্দুয়া ইউনিয়নে বোরো ধানে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD) পদ্ধতির ওপর দিনব্যাপী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের সাতকুড়া পশ্চিম পাড়া এলাকায় পারভেছ খানের বাড়িতে বোরো ধানে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (Alternate Wetting and Drying-AWD) পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর দিনব্যাপী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জেসমিন প্রকল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইমাম, উৎপাদক দলের সদস্যবৃন্দ, কমিউনিটি মার্কেট এজেন্ট এবং নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় Australian NGO Cooperation Program (ANCP)-এর অর্থায়নে “Gender Inclusive Market Systems for Improved Nutrition (GESMIN)” প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং উন্নয়ন সংঘ যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
হাফেজ মো. জোবায়ের হোসেনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মাঠ দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপনার পাশাপাশি সেইফগার্ড পলিসি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সংস্থার পরিচিতি বিষয়ে আলোচনা করেন কমিউনিটি ফেসিলিটেটর মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন AWD প্রদর্শনী কৃষাণী কল্পনা বেগম। তিনি বলেন, “এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম পানি ও কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর ও লাভজনক একটি পদ্ধতি।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার এমদাদুল হক। তিনি বলেন, “AWD পদ্ধতি সেচের পানি সাশ্রয় করে, বিদ্যুৎ খরচ কমায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস করে। এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি, যা কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে সহায়তা করবে।” তিনি সকল কৃষককে আগামী মৌসুম থেকে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ও পলি খাতুন। তারা মাঠ পর্যায়ে AWD পাইপের ব্যবহার, পানির স্তর নির্ণয় এবং সঠিক সময়ে সেচ প্রদানের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা। মাঠ দিবসের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষকদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, জেসমিন প্রকল্প কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।
সাতকুড়া দক্ষিণপাড়া নারী উৎপাদক দল-৩ এর সহ-সম্পাদক আয়শা বেগম বলেন, “এই পদ্ধতি দেখে অনেক ভালো লাগলো, যা আগে কখনো দেখিনি বা শুনিনি। জেসমিন প্রকল্পকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই মাঠ দিবসের আয়োজন করার জন্য। কারণ এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, সেচ ভাড়াও কম লাগবে এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।”
মাঠ দিবসে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, তারা আগামী মৌসুমে নিজেদের জমিতে AWD পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী এ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)