‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল ২৫ মে জেলা প্রশাসন, শেরপুরের উদ্যোগে রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদীয় আসন ১৪৫, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল, প্রটোকল ও মর্যাদা বিবেচনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা বিএনপি'র স্থগিতকৃত কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এ.বি.এম মামুনুর রশিদ পলাশ এবং শেরপুরের পুলিশ সুপার এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর শেরপুর জেলা আইনজীবী বিশ্ববিদদের সভাপতি ও জেলা বিএনপি স্থগিতকৃত কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আলহাজ্ব মোঃ আওয়াল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার আমীর মাওলানা হাফিজুর। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল ইসলাম বিপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ , বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কলাকুশলী এবং স্থানীয় সুধীজন অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, "কাজী নজরুল ইসলাম কেবল আমাদের জাতীয় কবিই নন, তিনি ছিলেন সাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে এক অবিনাশী কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতা ও গান আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে যেকোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়তে শক্তি জুগিয়েছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত, সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে নজরুলের আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি আমাদের সমাজকে বৈষম্যহীন ও মানবিক করতে চাই, তবে নজরুলের সাহিত্য ও জীবনদর্শনকে বুকে ধারণ করতে হবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.বি.এম মামুনুর রশিদ বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সৃষ্টিতে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের কথা বলে গেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করছি, যেখানে নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে কবির এই অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে, যেন তারা একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারে।"
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও বৈপ্লবিক চেতনার বিভিন্ন দিক অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা চিরকালীন。 যুগে যুগে মানুষের মুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ করবে।"
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। জেলা প্রশাসক ও প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে স্থানীয় শিল্পীদের এই পরিবেশনা উপভোগ করেন।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন