পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবের দিনেও মাঠপর্যায়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক চামড়া সংরক্ষণ, সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও কারাবন্দীদের খোঁজখবর নিতে দিনভর শহরের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রধানত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে জেলা প্রশাসকের এই ঝটিকা সফর ও মানবিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম তদারকি করতে মাঠপর্যায়ে নামেন জেলা প্রশাসক। তিনি শহরের কাছিমুল উলুম মাদ্রাসা, তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, জামতলী ফারাজিয়া আল আরাবিয়া মাদ্রাসাসহ 'আব্দুল হালিম ট্রেডার্স' ও 'ময়না রবিদাস ট্রেডার্স' নামক দুটি চামড়ার আড়ত পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন, দায়িত্বশীল ও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। চামড়ার অপচয় রোধ, বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে তিনি কঠোর নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে নিজ হাতে চামড়ায় লবণ দিয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহিত করেন।
ঈদের দিন শেরপুর 'সরকারি শিশু পরিবার' পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। সেখানে তিনি নিবাসী শিশুদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। একই সাথে ঈদ উপলক্ষ্যে শিশুদের জন্য পরিবেশিত বিশেষ খাবার, আবাসন ব্যবস্থা ও তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
শিশুদের প্রতি স্নেহ ও আন্তরিকতা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, "সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।" তিনি শিশুদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় তাঁর সাথে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ্ আসমা বিনতে রফিক, সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক মোঃ আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঈদের দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক শেরপুর 'জেলা কারাগার' পরিদর্শন করেন। কারাবন্দীদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দীদের মাঝে আয়োজিত বিশেষ ভোজ বা 'বড়খানা' বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি করেন তিনি। এ সময় তিনি নিজ হাতে বন্দীদের মুখে খাবার তুলে দেন এবং তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
কারাগার পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেল সুপার জনাব শাহ্ রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ জেলা প্রশাসন ও কারাগারের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
পবিত্র ঈদের দিনেও শেরপুর জেলা প্রশাসকের এমন কর্মব্যস্ততা, চামড়া শিল্পের সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং অসহায়-কারাবন্দীদের মাঝে ছুটে যাওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ জেলাজুড়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন