বকশীগঞ্জে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, নগদ ১৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের দাবি

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
নিজস্ব প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জে যাতায়াতের রাস্তা ও বর্জ্য পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বসতঘরে ভাঙচুর, নগদ ১৩ লাখ টাকা চুরি এবং স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী মামুন মিয়া উপজেলার চরকাউরিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি বকশীগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সাবেক মেয়রসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশ দিয়ে মামুন মিয়াদের পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনের বর্জ্য পানি রাস্তায় প্রবাহিত হওয়ায় চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ মে বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে মামুন মিয়া ও তার বাবাসহ কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়ভাবে সালিশের কথা বলে অভিযুক্তরা মামুন মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে পুনরায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলায় নারী-পুরুষসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। পাশাপাশি এক নারীর গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং ঘরের ওয়ারড্রোব ভেঙে জমি বিক্রির নগদ ১৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, উপজেলার চরকাউরিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে মো. ফরিদ (৫০), মৃত টিয়াজ আলীর ছেলে মো. শাহজাহান (৫০), ফরিদের ছেলে ফাহিম মিয়া (২৩) ও শাহজাহানের ছেলে মো. রায়হান (২৪); বকশীগঞ্জ সওদাগরপাড়া এলাকার মৃত মফিজল হক সওদাগরের ছেলে সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম সওদাগর (৫৫), মানিক সওদাগর (৬৫), মো. বিপ্লব সওদাগর (৫০) ও মো. লিটন সওদাগর (৩০); ভাটি কলকিহারা এলাকার বক্কর আলীর ছেলে মো. ফরহাদ (৫৫); বকশীগঞ্জ কসাইপট্টি এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে মো. সিমান্ত (২৮); মিয়াপাড়া এলাকার বাদিল মিয়ার ছেলে আরাফাত (৩০); জাগিরপাড়া এলাকার বক্কর আলীর ছেলে মুদ্রা মিয়া (৫৫); বাট্টাজোড় এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে মো. রাহাত (৩২) এবং মো. রোকন মিয়া (৩৮)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)