শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ৫ জনকে উদ্ধার করা হলেও কাটেনি রহস্যের ধোঁয়াশা। পুলিশ ঘটনাটিকে স্রেফ ‘ঘুরতে যাওয়া’ বলে দাবি করলেও, কোমলমতি শিশুদের এভাবে উধাও হওয়ার পেছনে অন্য কোনো অন্ধকার অধ্যায় বা তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা—তা নিয়ে জনমনে গভীর কষ্ট, ক্ষোভ ও তীব্র উদ্বেগ দানা বেঁধেছে। সোমবার (৮ জুন) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ ও স্বজনদের যৌথ তৎপরতায় নিখোঁজ ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতরা হলো— আবদুল্লাহ আনসারী (১০), রাব্বানী (১১), তোফায়েল (১২), রাসেল (১৩) এবং খন্দকার মাশরাফি (১২)। তাদের উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ায় স্বজনদের মনে আংশিক স্বস্তি ফিরলেও, নালিতাবাড়ীর সাধারণ মানুষের মনের কষ্ট ও সংশয় দূর হচ্ছে না। এখনো একজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকায় উৎকণ্ঠা আরও ঘনীভূত হয়েছে।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া শিশুরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললেও স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষ এই সরল ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। নালিতাবাড়ীর বাসিন্দাদের মনে এখন নানা ক্ষোভ ও কষ্টের প্রশ্ন এত কম বয়সী শিশুরা হঠাৎ করে কীভাবে এত বড় পরিকল্পনা করল এবং বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী এমনকি ঢাকার মহাখালী পর্যন্ত পৌঁছে গেল? সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই কোমলমতি শিশুদের সরলতার সুযোগ নিয়ে নেপথ্যে থেকে কোনো উগ্রপন্থী সংগঠন, কিশোর অপরাধ চক্র বা কোনো কুচক্রী মহল কি 'ব্রেনওয়াশ' বা প্ররোচনা দিচ্ছে? একের পর এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার এই প্রবণতা স্থানীয় অভিভাবকদের মনে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। সন্তানদের মাদ্রাসায় বা বাইরে পাঠাতে এখন রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, স্রেফ শিশুসুলভ চপলতা থেকে এত বড় ঘটনা ঘটা অসম্ভব। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই অন্য কোনো গভীর রহস্য বা অসৎ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, যা উদ্ঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত সমাজ নিরাপদ নয়।নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম এবং নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ৫ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হলেও শেষ ১ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি।
তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধমূলক বা অপহরণের তথ্য না পাওয়া গেলেও জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা ও নিখোঁজ শেষ ছাত্রটির সন্ধানে পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান ও তদন্ত জোরদারভাবে অব্যাহত রয়েছে।৫ জন ফিরে আসলেও ঘটনার পেছনের মূল রহস্য অধরাই থেকে গেছে। স্থানীয়দের মতে, এই নিখোঁজকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো চক্রের সংযোগ আছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা না হলে আগামী দিনে অন্য শিশুদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই শেষ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার এবং এই রহস্যের প্রকৃত সত্য আড়ালে না রেখে তা জনগণের সামনে উন্মোচন করাই এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন