কেন্দুয়ায় ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ষান্মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
জামালপুর সদর উপজেলার ১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ষান্মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন ২০২৬) কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাজার কমিটির সদস্য, উৎপাদক দলের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইমাম, কমিউনিটি মার্কেট এজেন্ট, কৃষক, ইউনিয়ন সমাজকর্মী, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আনসার সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা,জেসমিন প্রকল্পের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় Australian NGO Cooperation Program (ANCP)-এর অর্থায়নে “Gender Inclusive Market Systems for Improved Nutrition (GESMIN)” প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংঘ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
হাফেজ মো. আব্দুল আজিজের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
ইউপি সদস্য মো. রাকিবুল ইসলাম (মিলনের) সভাপতিত্বে সভার উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম (মিলন) বলেন, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সমস্যা সমাধান, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন জেসমিন প্রকল্পের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা। তিনি বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্থানীয় নেতৃত্ব, কৃষক ও বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে স্থানীয় উন্নয়নকে গতিশীল করাই এ কমিটির মূল উদ্দেশ্য। তিনি পুষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে নিরাপদ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আগামী আমন মৌসুমে বন্যা সহনশীল ধানের জাত যেমন বিনা-২৫, ব্রি ধান-৫১ ও ব্রি ধান-৫২ চাষের জন্য তিনি কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি কৃষি উপকরণের সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণ রোধে বালাইনাশকের বোতল ও প্যাকেট নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণের আহ্বান জানান।
ইউনিয়ন সমাজকর্মী নাজমা বেগম তাঁর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শতভাগ সম্পন্নকরণ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোছা: শামছুন্নাহার ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি নাগরিকদের সময়মতো সেবা গ্রহণ, তথ্য হালনাগাদ রাখা,প্রকল্পের সার্বিক কাজে সহযোগিতা করা এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
শিক্ষক মমিনুর রহমান খান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা বিস্তার এবং নতুন প্রজন্মকে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতন ও শিক্ষিত নাগরিকই একটি উন্নত সমাজ গঠনের প্রধান ভিত্তি।
সভায় সেইফগার্ড পলিসি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া গত সভার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। গত সভার রেজুলেশন পাঠ করেন এবং দক্ষতার সঙ্গে পুরো সভা সঞ্চালনা করেন জেসমিন প্রকল্পের কমিউনিটি ফেসিলিটেটর মাসুদ রানা।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আগামী ছয় মাসের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তসমূহ হলো—
১. ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
২. পরিবেশ দূষণ রোধে যেখানে-সেখানে পলিথিন না ফেলে নির্ধারিত ড্রামে সংরক্ষণ করা হবে।
৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে অতিরিক্ত ২০টি ড্রাম স্থাপন করা হবে।
৪. নারী উদ্যোক্তা ও নারী ক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নারীবান্ধব মার্কেট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৫. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
৬. ব্যবহৃত বালাইনাশকের বোতল ও প্যাকেট নির্ধারিত স্থানে একত্রে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
৭. আগামী আমন মৌসুমে বন্যা সহনশীল ধানের জাত, বিশেষ করে বিনা-২৫, ব্রি ধান-৫১ ও ব্রি ধান-৫২ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।
সভা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন জেসমিন প্রকল্পের কমিউনিটি ফেসিলিটেটর নীলা আক্তার ও শাহীন মিয়া।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা ইউনিয়নের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন উন্নয়ন এবং সরকারি সেবার কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)