একটি বাল্যবিবাহের হাত থেকে মাতৃহীনা কিশোরী শিখা রবি দাসের জীবন রক্ষা করে অনন্য এক মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে শুধু যে একটি নাবালিকার বিয়ে বন্ধ হয়েছে তা-ই নয়, বরং মেয়েটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সম্পূর্ণ অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার আড়াইআনী এলাকার ঝুঁকিতে থাকা শিখা রবি দাসের বাল্যবিবাহ বন্ধের পর তার সাথে দেখা করেন জেলা প্রশাসকমিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন । কিশোরী শিখার শিক্ষাজীবন যেন কোনো বাধায় থমকে না যায়, সেজন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষাব্যয় বাবদ নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
একই সাথে মেয়েটির নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে শেরপুর জেলা প্রশাসন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি আরো বলেন প্রতিটি শিশুর শিক্ষা গ্রহণ, নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না; শিক্ষা ও সচেতনতাই পারে তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে।
এমন দূরদর্শী ও সংবেদনশীল ভূমিকার কারণে একটি অন্ধকার ভবিষ্যৎ থেকে আলোর পথে ফিরে এলো শিখা রবি দাস। ডিসি মহোদয়ের এই মানবিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসন জানায়— বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার প্রসার এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সত্যিকারের জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
শেরপুর জেলা প্রশাসকের এই ব্যতিক্রমী ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম স্থানীয় সুধীমহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। প্রশাসনের এমন অভিভাবকসুলভ আচরণ সমাজের অন্য অসহায় শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে নতুন সাহস জোগাবে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন