একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ (লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক সনাতন ধারণা) দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং সমাজের সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে। ৭ জুন ১২ টায় শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।‘সমতায় তারুণ্য প্রজেক্ট’ (SHOMOTAY TARUNNO PROJECT)-এর আওতায় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ নিরসনে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এই সভার আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে যুব বিজ্ঞান সোসাইটি এন্ড সাংস্কৃতিক ক্লাব (JBIS Club)।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠনে শিশুর লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল শিশুকে সমান সুযোগ, মর্যাদা ও যত্নের সঙ্গে বড় করতে হবে। জেন্ডার সমতা ও সচেতনতার এই ইতিবাচক চর্চাটি সবার আগে পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত। তিনি আরও যোগ করেন, নারী-পুরুষের সমঅধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শেরপুরের
পুলিশ সুপার এ.কে.এম. জহিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মিজ্ আরিফা সিদ্দিকা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব বিজ্ঞান সোসাইটি এন্ড সাংস্কৃতিক ক্লাব (JBIS Club)-এর সভাপতি আব্দুস সাত্তার, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. লুৎফুল, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা এবং ব্র্যাক-এর শেরপুর জেলা সমন্বয়ক মিজ্ ফারহানা মিল্কী। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি, স্থানীয় ফ্রিল্যান্সার, কমিউনিটি লিডার এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের সংশ্লিষ্ট সুধীজন সভায় অংশ নেন। আলোচনা সভায় বক্তারা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক ধারণা দূরীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সভাটি সমাপ্ত হয়।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন