নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একের পর এক মিছিল এবং জেলা শহরের নবীনগরে আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শেরপুর জেলা ছাত্রদল। এই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৫ জুন বিকেলে শেরপুর শহরের নবীনগর এলাকায় ‘নবীনগর মসজিদ ও মাদ্রাসা’র সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। জানা গেছে, উক্ত মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম রেজা এবং তার সাথে আরও বেশ কিছু নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলের ভিডিও ও বিভিন্ন স্লোগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এর আগেও শেরপুরের ভাতশালা ইউনিয়ন ও ভীমগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তায় নিষিদ্ধ এই সংগঠনটিকে মিছিল করতে এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তা প্রচার করতে দেখা গেছে।
গতকালকের মিছিলটি শেরপুর সদর থানার একেবারে কাছাকাছি এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—থানার এত কাছে কীভাবে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারে?এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদুজ্জামান সিদ্দিকী আসিফ। তিনি প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির মধ্যেও ছাত্রলীগের কর্মীরা একাধিক জায়গায় মিছিল করেছে। কিন্তু সেই তৎপরতা বন্ধে বা জড়িতদের কাউকেই গ্রেফতার করতে দেখা যায়নি। নবীনগর এলাকাতেই ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাসা। অথচ তাদের নাকের ডগায় এমন নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড ঘটার পরও সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো জোরালো তল্লাশি অভিযান চালানো হয়নি। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নামে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা শহরে প্রকাশ্যেই ঘোরাঘুরি করছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে একের পর এক মিছিল-মিটিং হচ্ছে এবং কারা এদের পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তা নিয়ে সাধারণ সম্পাদক আসিফ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।শেরপুর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর নিষিদ্ধ হওয়া কোনো সংগঠনকে শেরপুরের মাটিতে আর কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে যদি এই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী ও মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা না হয়, তবে ছাত্রদল সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন