পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের তিন উপজেলা প্লাবিত: ভেসে গেছে মাছের ঘের, তলিয়ে গেছে সবজিখেত

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
উজানে ভারতে এবং দেশের অভ্যন্তরে সীমান্ত অঞ্চলে হঠাৎ ভারী বর্ষণের ফলে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের তিন উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত উপজেলাগুলো হলো—নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী। ঢলের পানিতে সীমান্ত সড়ক উপচে অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। এর ফলে গারো পাহাড় অঞ্চলের ব্যাপক শাকসবজি বাগান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে এবং বহু মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় এক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে ভারতীয় এবং দেশীয় পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তীব্র বেগে ঢল নেমে আসে। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধাকুড়া সীমান্ত সড়ক উপচে পানি প্রবাহিত হতে থাকে। পানির তীব্র স্রোতের কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য যানবাহন চলাচল তো বটেই, সাধারণ মানুষের চলাচলও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।
অপরদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মধুটিলা ইকোপার্কের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় পার্কের সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাগুলো তলিয়ে যায়। ফলে সেখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল কাদির জানান, প্রতি বছর বর্ষাকালে এমন পাহাড়ি ঢল দেখা দিলেও এবার খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসেছে। ফলে সড়ক ও আশপাশের নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়। প্রবল স্রোতে তাদের শাকসবজি বাগান এবং মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। যদিও বৃষ্টি থামার পর পানি আস্তে আস্তে নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে যাচ্ছে, তবে প্রতি বছরের এই নিয়মিত ক্ষয়ক্ষতিতে তারা দিশেহারা।
একই গ্রামের সবজি চাষি ইব্রাহিম খলিল ও মফিজল হক ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে এবং সবজিখেত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি মৌসুমে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন করে আর ভারী বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুতই পানি নেমে যাবে এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না।
কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তারা বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি তদারকি করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং চাষিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)